বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সমস্ত দেশটি অসংখ্য নদী, উপনদী, শাখা এবং প্রশাখা নদী দ্বারা মাকড়সার জালের মতো আচ্ছাদিত ও নদ-নদীর জলধারাই বাংলার প্রাণশক্তি।
এই নদীগুলিই বাংলার আশীর্বাদ ও পাশাপাশি অভিশাপও। বাংলার কোমল, নরম ও নমনীয় ভূমি নিয়ে বাংলাদেশের নদ-নদীগুলি ঐতিহাসিককালে কত খেলাই না খেলেছে; উদ্দাম প্রাণলীলায় কতবার যে পুরাতন খাত ছেড়ে নতুন খাতে প্রবাহিত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই সহসা খাত পরিবর্তনে কত সুরম্য নগর, বাজার-বন্দর,গ্রাম, শস্য-শ্যামল প্রান্তর, কত মসজিদ, মঠ ও মন্দির, মানুষের কত কীর্তি ধ্বংস করেছে, কত দেশখণ্ডের চেহারা ও সুখ-সমৃদ্ধি একেবারে বদলিয়ে দিয়েছে তার হিশাবও ইতিহাস সর্বত্র রাখতে পারে নি।
প্রাচীনকালে এই নদ-নদীগুলির প্রবাহপথের এবং দুরন্ত প্রাণলীলার সঠিক এবং সুস্পষ্ট ইতিহাস আমাদের কাছে উপস্থিত নেই ; পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতক থেকে নদ-নদীগুলির ইতিহাস যতটা সুস্পষ্টভাবে ধরতে পারা যায় নানা দেশী-বিদেশী বিবরণের এবং নকশার সাহায্যে । তবে জানা কথা, প্রাচীন বাংলায় অনেক প্রশস্ত খরতোয়া নদী সংকীর্ণ ক্ষীণস্রোতা হয়ে পড়েছে,এখন অনেক নদী মৃত বা মৃত প্রায়। বাংলার নদ-নদী সম্পর্কে বলতে গেলে ইতিহাসবিদ নীহাররঞ্জন রায়ের ভাষায় বলতে হয়, ’বাংলার ইতিহাস রচনা করেছে বাংলার ছোটো বড় অসংখ্য নদ-নদী’।বাংলাদেশের এই নদীগুলির নাম কী সুন্দর, কি অপূর্ব ব্যঞ্জনাময় ।তাই নামকরণ হয়েছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, কর্ণফুলী, ইছামতী, কপোতাক্ষ, বংশী, কংশবর্তী, মধুমতী, ধলেশ্বরী, করতোয়া, তিস্তা, সুরমা ইত্যাদি ।
তাই প্রত্যেক মননশীল বাঙালিরই বাংলার নদ-নদী ,জলবায়ু -আবহাওয়া সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এমনি এক ভাবনা থেকেই ৬০টি প্রবন্ধের অনুপম সংকলনটির সৃষ্টি।এই সংকলনটিতে শুধু দেশের নদ-নদীর কথা নয়, রয়েছে বিশ্বের প্রধান প্রধান নদ-নদীর বিবরণ।
Reviews
There are no reviews yet.